আশরাফ, কাদের, না সোহেল তাজ?

aনিজস্ব প্রতিবেদক,বর্তমানকণ্ঠ ডটকম: কে হচ্ছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক? আশরাফ না কাদের? কাদের না সোহেল তাজ? সম্মেলনকে সামনে রেখে এটি এখন দলটির নেতা-কর্মীদের মধ্যে কোটি টাকার প্রশ্ন হয়ে দাড়িঁয়েছে।

বুধবার রাতে দলের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকের পর থেকেই মূলত এই গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। এদিন বিকেল ৫টার পর থেকে শুরু হওয়া সভা রাত ১০টার দিকে শেষ হয়। এরপর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে সম্মেলনস্থল সোহরাওয়ার্দী উদ্যান হয়ে ধানমন্ডিসহ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে এই আলোচনা।

দলীয় সূত্র জানায়, বুধবার বৈঠক শেষে সভাপতিম-লীর সদস্য, সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের দলের সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় শেখ হাসিনা কাদেরকে উদ্দেশ্য করে তৃণমূল পর্যায়ে জনমত জরিপে এগিয়ে থাকার কথা বলেন। পরে এই খবর ছড়িয়ে পড়লে ফেসবুকসহ বিভিন্ন জায়গায় উল্লসিত অভিব্যক্তি প্রকাশ করতে দেখা যায় কাদের-সমর্থকদের।

এদিকে আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ২০০৯ সাল থেকে এই পদে আছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তিনি গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তার আগে তিনি তার মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবনে জাতীয় চার নেতার এক ছেলে তানজিম আহমদ সোহেল তাজের সঙ্গে বৈঠক করেন। এটিকে আশরাফবিরোধীরা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ওবায়দুল কাদেরকে ঠেকানোর কৌশলী ট্রাম্পকার্ড হিসেবে দেখছেন।

দলীয় সূত্র জানায়, বৈশ্বিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সৈয়দ আশরাফ এশিয়ার দুই পরাশক্তি দেশের মধ্যে একটি দেশের বিশ্বস্ত আস্থাভাজন হিসেবে পরিণত হওয়াকে ভালো চোখে দেখছেন না অন্য পরাশক্তির দেশটি। এ ছাড়া দলীয় রাজনীতিতে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কাদেরকে দেখতে নির্দিষ্ট একটি পরিবার পক্ষের চাপ আছে বলেও গুঞ্জন ও আলোচনা আছে আওয়ামী ঘরানায়।

দলীয় নেতারা আরও জানান, বুধবারের এই ঘটনার পর থেকে ওবায়দুল কাদেরসহ তার সর্মর্থকদের মধ্যে এ ধরনের উচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়। ওবায়দুল কাদেরও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে ধানমন্ডি-৩ শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে নিরন্তর ছুটে চলছেন। বৃহস্পতিবার রাতে তিনি সোহরাওয়ার্দী উদ্যান সম্মেলনস্থল পরিদর্শন শেষে রাত সাড়ে দশটার দিকে সভাপতির কার্যালয়ে আসেন। এ সময় নেতা-কর্মীদের মধ্যে তাকে হুড়োহুড়ি ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায়।

এ ব্যাপারে শুক্রবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সম্মেলনস্থলে মঞ্চ ও প্যান্ডেল প্রস্তুতির কার্যক্রম পরিদর্শন করতে এলে ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, `‘এখনই কিছু বলতে চাই না। আকাশে চাঁদ উঠলে সবাই দেখতে পাবে।’

এদিকে বরাবরেই মতোই নিভৃতচারী সৈয়দ আশরাফের এখনো কোন প্রতিক্রিয়া বা অভিব্যক্তি নেতা-কর্মীরা জানতে না পেরে কিছুটা উদ্বেগ ও আশঙ্কা করছেন। যার গুঞ্জন চলছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে ধানমন্ডি ৩/এ পর্যন্ত। সৈয়দ আশরাফ ও কাদেরের এই পদের অদৃশ্য লড়াই টক অব দ্য টাউনে পরিণত হয়েছে। বর্তমান সরকার দ্বিতীয়বার শপথ নেওয়ার পর নিজের পুরোনো দপ্তর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে এক সভায় কারও নাম উল্লেখ না করে কাদেরের দিকে ইঙ্গিত করে বলেছিলেন, লাফালাফি করা, সাংবাদিকদের হাতে নেওয়া, হাতে তালি পাওয়া, মিডিয়াকে উপস্থিত করাই যদি মূল উদ্দেশ্য হয়- তাহলে প্রতিদিনই আমরা ব্রিজ-কালভার্ট দেখতে যেতে পারি।

অপরদিকে, আগে থেকে আলোচনার র্শীষে থাকা সোহেল তাজকে গাজীপুর থেকে কাউন্সিলর করা হয়েছে। সোহেল তাজ হলেন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক তাজউদ্দীন আহমদের একমাত্র ছেলে। যিনি সরকারের গত মেয়াদে প্রাক্তন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। সোহেল তাজের ঘনিষ্টরা জানান, বুধবার ভোরে তুর্কি এয়ারলাইনসের একটি বিমানে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ঢাকায় আসেন সোহেল তাজ। ঢাকা নেমে তিনি বড় বোন সিমিন হোসেন রিমি এমপির বারিধারার বাসায় ওঠেন।

তারাও জানান, সোহেল তাজ জরুরি তলবে আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারকদের গ্রিন সিগন্যালেই দেশে ফেরেন। তাকে ঘিরে আওয়ামী পরিবারে যে গুঞ্জন ছিল, তা ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে। যে কারণে গত ২৪ জানুয়ারি ২০১৬ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেন সোহেল তাজ। এদিন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎকালে ছিলেন তার বোন মেহজাবিন আহমদ মিমি ও সিমিন হোসেন রিমি। প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে এই সাক্ষাৎ হয়। ওখানে শেখ হাসিনা সোহেল তাজকে রাজনীতে ফেরার ইঙ্গিত দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *