সৌদি বাংলাদেশ দূতাবাসের সহায়তায় প্যারালাইজড মোতালেব দেশে ফিরেছেন

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্তমানকন্ঠ ডটকম, সৌদি আরব : আব্দুল মোতালেব মজুমদার এর দীর্ঘ ৩৫ বছর প্রবাস জীবনের অবসান হয়েছে রাষ্ট্রদূত গোলাম মসীহর সহায়তায় দেশের ফেরার মধ্য দিয়ে । মোতালেব জানান, রমজান মাসে হঠাৎ শারিরিকভাবে চলাফেরায় অক্ষম হয়ে যান। ডাক্তারি পরীক্ষা নিরীক্ষায় ধরা পড়ে তিনি প্যারালাইসিসে (পক্ষাঘাত) আক্রান্ত, তার পা দু‌টি সর্ম্পূন অচল । কর্মক্ষম মানুষটি হটাৎ শারিরিক অক্ষমতায় পড়ে যাওয়ায় আপন ছোট ভাই কর্মব্যস্ততার কথা বলে দুরে সরে গেলেন । অথচ মোতালেব পরিবারের ভাই বোনের দায় দায়িত্ব মাথায় নিয়ে সারা জীবনের উপার্জিত অর্থ ব্যয় করেছিলেন তাদের প্রতিষ্ঠিত করার জন্য ।

দূতাবাস প্রাঙ্গনে কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে তিন সপ্তাহ যাবৎ দিনাতিপাত করে আইনী প্রক্রিয়া শেষে রাষ্ট্রদূতের অর্থ সাহায‌্যে বাংলাদেশ বিমানের টিকেটের ব্যবস্হার মধ্য দিয়ে আউট পাশে দেশের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলেন মোতালেব।অনিশ্চয়তা আর হতাশার মধ্য দিয়ে অবসান ঘটলো দীর্ঘ ৩৫ বছর প্রবাস জীবনের ।

দূতাবাস প্রাঙ্গনে রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ্ নগদ অর্থ ও বিমানের টিকেট আব্দুল মোতালেবের হাতে তুলে দেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন দূতাবাসের কার্যালয় প্রধান ড. ফরিদউদ্দিন আহমদ, শ্রমকাউন্সেলর সারোয়ার আলমসহ উইংয়ের অন্যান্য কর্মকর্তা এবং প্রেসউইং-এর দ্বিতীয় সচিব ফকরুল ইসলামসহ আরো অনেকে।

শ্রম কাউন্সেলর সারোয়ার আলম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, দেশে ফিরে গিয়ে চিকিৎসার জন্য প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ওয়েজ আর্নাস ফান্ডে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে আব্দুল মোতালেবের। ওই আবেদনে আমরা সুপারিশ করবো। ফলে তিনি চিকিৎসার জন্য এককালীন অর্থ পাবেন।

দুই মেয়ে এবং দুই ছেলের জনক চাঁদপুর জেলার ফরিদগন্জের বুলাচোঁ গ্রামের আব্দুল মোতালেব মজুমদার ১৯৭৮-৭৯ সালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ চাঁদপুর জেলা শাখার যুগ্ম আহবায়ক ছিলেন এবং জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের সৈনিক ।

চার সন্তানের মধ্যে তিন জনের এখনও লেখাপড়া শেষ হয়নি। বড় মেয়েকে মাস্টার্স করিয়ে বিয়ে দিয়েছেন। মেঝ মেয়ে কমার্সে ইন্টারমিডিয়েড পড়ছে। বড় ছেলে ডিপ্লোমা করছে এবং ছোট ছেলেটা চাঁদপুরের আল-আমিন একাডেমিতে ক্লাস ফাইভ-এ। এখন অবশ দুপায়ে পক্ষাঘাত রোগ সঙ্গে নিয়ে দেশে ফিরে কী করবেন তাই ভাবছেন প্রবাসী আব্দুল মোতালেব মজুমদার।

তিনি সৌদি আরবের বাজার ইন্টান্যাশনাল কোম্পানীতে বিক্রয়কর্মীর কাজ করতেন ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *