পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে উৎসবে পরিণত হয় জেদ্দা কনস্যুলেট

বাহার উদ্দিন বকুল, বর্তমানকন্ঠ ডট কম, জেদ্দা, সৌদি আরব : নববর্ষ মানেই নতুন আশা, নতুন স্বপ্ন, নতুন প্রত্যয়। নববর্ষ মানেই জীর্ণ-পুরোনোকে বিদায় জানানো। নববর্ষ মানেই কবি শামসুর রাহমানের গান:

পহেলা বৈশাখ বাংলা নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল জেদ্দা, বাংলার প্রাচীন ঐতিহ্য আর নগর জীবনের নতুনের জয়গান সমৃদ্ধ এক আন্দঘন বৈশাখী উপহার দিয়েছে “শুভ নববর্ষ-১৪২৫” উদযাপনে। অন্যান্য বছরের তুলনায় অত্যন্ত ব্যতিক্রমধর্মী এবারের আয়োজনে বাংলাদেশের সাথে তাল মিলিয়ে এবং সরকার কর্তৃক অনুমোদিত জাতীয় কর্মসূচি অনুসরণে প্রবাসে বাংলাদেশকে তুলে ধরার প্রচেষ্টা ছিল ষোল আনা।

প্রবাসে সুস্থ বিনোদন, সুন্দর জীবন ও সীমাবদ্ধতার মাঝেও বৈশাখী উৎসব স্বার্থক করার জন্যে দলমত জাত ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে স্বতঃস্ফুর্ত ভাবে প্রবাসী বাংলাদেশীরা ছুটে আসে জেদ্দা কনস্যুলেট প্রাঙ্গণে বাংলা নববর্ষ উপভোগ করার জন্য ।

দিনব্যাপী তিন পর্বে অনুষ্ঠিতব্য আয়োজনে, প্রথম পর্ব শুরু সূর্যদয়ের সাথে সাথে ভোর ৬টা ৪৫মিনিটে সূচনায় মঙ্গল শোভাযাত্রা ও উদ্বোধন করেন কনসাল জেনারেল এফ এম বোরহান উদ্দিন,

অংশগ্রহণ করেন কনস্যুলেটের কর্মকর্তা-কর্মচারী, আমন্ত্রিত রাজনৈতিক-সামাজিক- সাংস্কৃতিক নেতৃবৃন্দ, ছাত্র-শিক্ষক-অভিভাবক ও সংবাদকর্মী, সপরিবারে অংশগ্রহণ করেন। ছিলেন সাধারণ প্রবাসীরাও। এ যেন প্রবাসীদের মিলনমেলা, প্রবাসে এক টুকরো স্বাদেশ।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্ব পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হয়। ০১ বৈশাখে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে এর ঐতিহ্য, বাঙালি সংস্কৃতি লালনের গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরে কনসাল জেনারেল এফ. এফ. বোরহান উদ্দিন উপস্থিত প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য পেশ করার পর বেগম সাবরিনা নাহরিন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। বৈশাখকে বরণ করতে বাংলা স্কুল এবং ইংরেজি স্কুলের ছাত্রছাত্রী এবং জেদ্দার সাংস্কৃতিক অঙনের শিল্পীদের পরিবেশনায় অত্যন্ত উপভেগ্য ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। পরবর্তীতে লাঠি নৃত্য ও পান্তা ভোজের আয়োজন করা হয়। যা সত্যিই আবহমান বাংলার প্রাচীন ঐতিহ্যের সাথে নতুন প্রজন্মের মেলবন্দন রচনা করেছে।

উদ্বোধনী বক্তব্যে কনসাল জেনারেল, মেলায় উপস্থিত সকলকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান। প্রবাসে সুস্থ্য বিনোদন, সুন্দর জীবন ও দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল রাখার প্রতি সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। সীমাবদ্ধতার মাঝেও বৈশাখী উৎসব স্বার্থক করার জন্যে উভয় স্কুল পরিচালনা পর্ষদসহ সামাজিক-রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং মিডিয়া প্রতিনিধিগণকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান তিনি।

সকাল নয়টায় আমন্ত্রিত অতিথিগণকে পান্তাভোজে আপ্যায়নের মাধ্যমে সমাপ্ত হয় দ্বিতীয় পর্বের।

তৃতীয় পর্বে ০৪:২৫ ঘটিকায় বেগম সাবরিনা নাহরিন পিঠা পার্বন এর উদ্বোধন করেন। এতে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল এর ০১টি এবং বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, বাংলা ও ইংরেজি শাখার ০২টি স্টল অংশগ্রহণ করেন। স্টলে ছিল,হরেক রকম পিঠা-পুলি, কাঁচা আমের ভর্তা, খিচুড়ি, মেহেদি লাগানো, চুড়ি-টিপ পড়ানো প্রভৃতির আয়োজন ছিল প্রায় ৪০থেকে ৪৫রকমের ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশি খাবারের মুখরোচক আয়োজন। উৎসবের শেষ সময় পর্যন্ত মানুষের আসা-যাওয়া অব্যাহত ছিল এবং আগত দর্শনার্থীবৃন্দ প্রানভরে এসব আয়োজন উপভোগ করেন।

এরপর জাহারা হক লামিয়া ও মারওয়া ওয়াজিউল্লাহ যৌথ পরিচালনায় একটানা সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত্য চলে বাউল গানের আসর। মাগরিবের নামাজের পর একদল ছোট্ট ক্ষুদে শিল্পিরা স্টেজ মাতিয়ে ঐতিহ্যবাহী গান ও নাচ, কবিতা আবৃতি, শুরু করে।

বাংলা সংস্কৃতিকে নতুন আঙ্গিকে তুলে ধরার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে সামনে এমন অনুষ্ঠান আরো হবে— জানিয়ে সমাপ্তি ঘোষণা করেন কনসাল কে এম সালাহ উদ্দিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *