মাদ্রিদে উৎসাহ উদ্দীপনায় বাংলাদেশি নারীদের বৈশাখ উদযাপন

কবির আল মাহমুদ, বর্তমানকন্ঠ ডটকম, মাদ্রিদ, স্পেন : নববর্ষের সকালে পান্তা-ইলিশ দিয়ে সকালের খাবার সেরে ছেলেরা পাঞ্জাবী আর মেয়েরা শাড়ি পরে বেরিয়ে পড়ে। রমনার বটমূল-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা থেকে সারাদেশের প্রতিটি ঘরে ঘরে চলে নতুন বছরকে বরণ করে নেয়ার নানা আয়োজন। আর এই আয়োজনের মূল দায়িত্বে থাকে নারীরা। নতুন বছর নব আনন্দ নিয়ে হাজির হয় প্রতিটি বাঙালি পরিবারে।বাঙালি সংস্কৃতির ইতিহাস হাজার বছরের। সমৃদ্ধ এই সংস্কৃতির সাথে বর্ষবরণ উৎসব ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
বিশ্বায়নের এই যুগে সবকিছুই পরিবর্তনশীল। তাই বলে আবহমানকাল ধরে চলে আসা উৎসবমুখর বাঙালির প্রাণের বৈশাখ বরণের দৃশ্যপটের তারতম্য ঘটেনি কোথাও। বৈশাখ মানে যে শুধু নতুন বছরকে সাদরে বরণ করা, তা নয়। আমার মনে হয় সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বাংলা ভাষাভাষী জাতিগোষ্ঠীর এক অপূর্ব মহামিলন উৎসবও বটে।
গতকাল শনিবার (২১ এপ্রিল-) স্পেনের মাদ্রিদে বসবাসকারী বাংলাদেশীরা সতঃর্ফুত ভাবে বাংলা নববর্ষ ১৪২৫ উৎযাপন করেছে।মাদ্রিদ প্রবাসী বাংলাদেশি নারীদের উদ্যোগে আনন্দ উল্লাসের মধ্যদিয়ে ‘বাংলা নববর্ষ’ উদযাপন করা হয়।রাজধানী মাদ্রিদের পার্শবর্তি পিরামিড পার্কে দেশীয় নানান রঙের পোশাক পরে তাদের পরিবারের সদস্যগণ বর্ণিল পোশাকে সজ্জিত হয়ে অনুষ্ঠানে যোগদান করেন। উপস্থিতি দেখে মনে হয় এযেন প্রবাসের বুকে এক টুকরো বাংলাদেশ। যা বিদেশিদেরও বেশ আকৃষ্ট করে।অনুষ্ঠানে দেশীয় নানা রকম খাবার দিয়ে আমন্ত্রিত অতিথিদের আপ্যায়ণ করা হয়।শতাধিক পরিবারের উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে আনন্দ-মুখর করে তোলে।
লুনা আলম আখি ,তানিয়া সুলতানা ঝরনা,নিগার সুলতানা ,জান্নাত শিউলি ,মারুফা আরেফিন ,সেতু হাসানের যৌথ উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশী মানবাধিকার সংগঠন ভালিয়েন্তে বাংলার সভাপতি মোহাম্মাদ ফজলে এলাহী , বৃহত্তর নোয়াখালী সমিতির সাধারন সম্পাদক আবুল কাশেম ,মানিক মিয়া ,বাহার উদ্দিন, এমদাদ হোসেন দিপু ,সরওয়ার আহমেদ , শামীম আহমেদ ,সিজান আহমেদ ,পলাশ ও তানভীর প্রমুখ।

এসোসিয়েশন ভালিয়েন্তে বাংলার সভাপতি মোহাম্মদ ফজলে এলাহী বলেন, দেশের আবহমান সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যকে এগিয়ে নেয়া আর সেই সঙ্গে বিদেশের মাটিতে নতুন প্রজন্মকে দেশের আবহমান কালের সংস্কৃতিকে পরিচয় করিয়ে দেয়াই এই ধরনের বর্ষাবরণ ও সামাজিক অনুষ্ঠানের আয়োজন। তা ছাড়া আমাদের নারীরা কোনো না কোনোভাবে কর্মজীবী তাই পরিবার পরিজন নিয়ে সবাই একসঙ্গে হওয়ার আনন্দটা সব সময় অন্যরকম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *