স্পেনের টেনেরিফে কমিনিদাদ দে বাংলাদেশের আয়োজনে নতুন বছরকে বরণ

কবির আল মাহমুদ, বর্তমানকন্ঠ ডটকম, স্পেন : ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে দেশের মানুষের মতো স্পেনের প্রবাসী বাঙালিরাও বরণ করে নিয়েছেন বাংলা নতুন বছরকে। বিশ্বের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা প্রবাসীদের ন্যায় স্পেনে ও নববর্ষ উপলক্ষে মেতেছেন আনন্দ-উৎসবে।

এর মধ্যে স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদসহ একাধিক নগরীতে অনুষ্ঠিত হয় বর্ণাঢ্য বৈশাখী উৎসব। পহেলা বৈশাখের এসব উৎসবে যোগ দেন স্পেনে বসবাসকারী বাঙালি শিক্ষার্থী ,চাকুরিজীবী ,ব্যাবসায়ী ,রাজনীতিবিদ ও স্থানীয় বাংলাদেশি সংগঠনের প্রতিনিধিরা।স্পেনের টেনেরিফে শহরে কমিনিদাদ দে বাংলাদেশ আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রবাসীরাও ভিন্ন আয়োজনে বরণ করে নিয়েছেন নতুন বছরকে।’এসো হে বৈশাখ’ গানের সমবেত পরিবেশনার মাধ্যমে শুরু হয় উৎসব। পরবর্তীতে প্রদর্শিত হয় বিভিন্ন অনুষ্ঠান।

গত কাল রবিবার বিকেল ৩ টায় স্পেনের টেনেরিফের স্থানীয় একটি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়। তবে অনুষ্ঠান শুরুর নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মুখরিত হয়ে উঠে অনুষ্ঠানস্থল।

দেশীয় নানান রঙের পোশাক পরে বর্ণিল পোশাকে সজ্জিত হয়ে প্রবাসীরা অনুষ্ঠানে যোগ দেন। তাদের উপস্থিতি দেখে মনে হয় এ যেন প্রবাসের বুকে এক টুকরো বাংলাদেশ। অনুষ্ঠানে দেশীয় নানা রকম খাবার দিয়ে আমন্ত্রিত অতিথিদের আপ্যায়ন করা হয়।খাবারের তালিকায় ছিল বাঙালির প্রিয় ইলিশ ,রুই মাছ ,বিভিন্ন পদের মাংস ,ভাজি , ভর্তা ,খিচুড়ি ,চটপটি,ফুচকা ,মোয়া ,রকমারি পিঠা ,মিষ্টান্ন ,দুই ,গুলের শরবতসহ পান সুপারী অন্যতম। শতাধিক পরিবারের উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে আনন্দমুখর করে তোলে।

উৎসবে স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে সংস্কৃতি অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের ওইতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র লোকগীতি,দেশাত্মবোধক ,জাগরণী গান ও নৃত্য পরিবেশন করা হয় এছাড়া দেশীয় খেলাধুলা ,নাচ গান ,কবিতা আবৃত্তিসহ গল্পের আসরে মেতে বাংলাদেশিদের উল্লাস ছিল লক্ষনীয়।
অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন ব্যাবসায়ী মন্টু মিয়া, জাকির হোসাইন,রিংকু মিয়া,গনি মিয়া, সাঈদ আহমেদ।এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আলমগীর তাজ, ফরহাদ আহমেদ, পিন্টু আহমেদ, শাহীন আহমেদ, রায়হান মিয়া, আরিফ আহমেদ প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে অতিথিদের নববর্ষের উপহার হিসেবে কাচের চুড়ি ,তাল পাতায় নির্মিত হাত পাখা ,মাটির গয়না ও অন্যানো সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
আয়োজকরা জানান ,অনুষ্ঠানটি করার মূল উদ্দেশ্য হল আমাদের পরস্পরের মাঝে ভ্রাত্বিত্ববোধ বাড়িয়ে তোলা এবং প্রবাসে দেশের আবহমান সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যকে এগিয়ে নেওয়া। আর সেই সাথে ভিনদেশিদের কাছে আমাদের সংস্কৃতি পৌঁছে দেওয়া। আগামীতে এসব অনুষ্ঠানে ভিনদেশিদের আরো বেশি করে আমন্ত্রণ করে বাংলাদেশের আবহমান সংস্কৃতি তুলে ধরার ও প্রত্যয় ব্যাক্ত করেন আয়োজকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *