মাদ্রিদে বাঙালি-অবাঙালির মেলবন্ধনে ‘পরবাসে আনন্দের একদিন’

কবির আল মাহমুদ, বর্তমানকন্ঠ ডটকম : স্পেনের মাদ্রিদ প্রবাসী বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের একাধিক সংগঠন প্রতিনিয়ত আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে আয়োজন করে বিভিন্ন বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানের। কিন্তু এ বছর মাদ্রিদ প্রবাসীদের আনন্দ ছিল একটু ভিন্ন। মাদ্রিদের প্রাণকেন্দ্র অবস্থিত রানী সুফিয়া যাদুঘর পরিচলানা কমিটির আমন্ত্রনে বাংলাদেশী মানবাধিকার সংগঠন ভালিয়েন্তে বাংলাসহ অন্যানো দেশের ১৫ টি সামাজিক ও মানবাধিকার সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে ‘পরবাসে আনন্দের একদিন’ শীর্ষক এক জমকালো উৎসব অনুষ্ঠিত হলো রানী সুফিয়া যাদুঘর পার্কে। বিভিন্ন দেশের প্রায় পাঁচ শতাধিক প্রবাসী আনন্দের বানে ভাসায় এ আয়োজন। ছিল নারীদের পিঠা প্রতিযোগিতা, সঙ্গীত ও নাচ, সেনেগালের পারসিউশনিস্টলা Rueda, কলম্বিয়া সঙ্গীতডেসি মেসিয়াস গার্সিয়া, কলম্বিয়ান নাচ “কবিতা ভুলে যাওয়া”, প্রবাসী শিল্পীদের সংগীত পরিবেশন, নৃত্য, ইত্যাদি। প্রথমবারের মতো বাংলাদেশি অভিবাসীদের পক্ষে ভালিয়েন্তে বাংলা সংগঠন এ পিকনিকে অংশগ্রহণ করে।
গত কাল শনিবার (৩০ জুন) শনিবার স্থানীয় সময় বিকেল ৪ টায় রানী সুফিয়া যাদুঘর পার্ক পরিচালনা কমিটির তত্ত্বাবধানে আয়োজন করা হয় এই প্রবাস উৎসবের। এতে দলমত-নির্বিশেষে যোগ দেন বাংলাদেশ ,আফ্রিকা ,আলজেরিয়া ,মরক্কো ,কলম্বিয়াসহ বিভিন্ন দেশের বিপুলসংখ্যক প্রবাসী।এসময় প্রবাসীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বক্তব্য দেন মিউজিয়ামের প্রধান পরিচালক ম্যানুয়েল বোরজ-ভিল্লে,পরিচালক আনা লঙ্গোনি, রাফায়েল পিমেণ্টেল ,ভালিয়েন্তে বাংলার সভাপতি মোঃ ফজলে এলাহী প্রমুখ।
ম্যানুয়েল বোরজ-ভিল্লে, প্রবাসীদের প্রশংসা করে রানী সুফিয়া মিউজিয়ামের বিভিন্ন কার্যক্রমে ওপর সংক্ষিপ্ত আলোচনা ও স্পেনের অর্থনীতিতে অভিবাসদের অবদানের প্রশংসা করেন। তিনি স্থানীয় আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে অনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থেকে প্রতিটি দেশের সম্মান বজায় রাখতে অভিবাসদের প্রতি আহ্বান জানান।তিনি প্রতিবছর এরকম আনন্দ আয়োজন করার ইচ্ছে প্রকাশ করেন; যাতে বিভিন্ন দেশের অভিবাসীরা নিজেদের সংস্কৃতি একে অপরের সাথে আদান প্রদান করতে পারেন।
আয়োজনটি উপস্থিত সকলকে কিছুটা সময়ের জন্য হলেও আপ্লুত করে। উৎসবে রানী সুফিয়া মিউজিয়ামের কর্মকর্তাসহ প্রবাসী বাংলাদেশিরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
উৎসবে দেশের ঐতিহ্যবাহী পুলি, ভাপা, দুধ চিতই, পাটিসাপটা, প্যারা, জিলাপি ও সাজের পিঠাসহ হরেক রকমের পিঠার পসরা সাজিয়েছিলেন সর্বস্তরের মাদ্রিদ প্রবাসী বাংলাদেশি নারীরা।এছাড়া আফ্রিকান ,এশিয়ান ,আরাবী ও স্প্যানিশ খাবার ও পরিবেশন করা হয়। খাবারের পাশাপাশি ছিল বিভিন্ন দেশের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। বাংলাদেশি নৃত্য পরিবেশন করেন লামিয়া ও তার দল। এছাড়াও সেনেগালের মউমার দাইয়ি, কলম্বিয়ার দেইসি মেসিয়াস গারসিয়ার নৃত্য পিকনিকে উপস্থিত সবার দৃষ্টি কাড়ে।
এসময় বাংলাদেশী কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যাক্তিবর্গের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ভালিয়েন্তে বাংলার সাধারন সম্পাদক রমিজ উদ্দিন সরকার ,নারী নেত্রী আফরোজা রহমান ,ব্যাবসায়ী আলমগীর হোসাইন ,এম আই আমিন ,রাজনীতিবিদ আবু জাফর রাসেল ,তানিয়া সুলতানা ঝরনা, লুনা আলম আখি, জান্নাত শিউলি, মারুফা আরেফিন, সেতু হাসান,নিগার সুলতানা প্রমুখ।
এসোসিয়েশন ভালিয়েন্তে বাংলার সভাপতি মোহাম্মদ ফজলে এলাহী বলেন, প্রবাসে নিজেদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ বাড়িয়ে তোলা এবং বিদেশে দেশের আবহমান সংস্কৃতির ঐতিহ্যকে অগ্রসরমান করা। সেই সাথে ভিনদেশিদের কাছে বাঙালির সংস্কৃতির ঐতিহ্য পৌঁছে দেওয়া এবং পরিবার পরিজন নিয়ে সবাই একসঙ্গে হওয়ার আনন্দটা সব সময় অন্যরকম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *