জেনেভাস্থ বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে মহান বিজয় দিবস

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্তমানকন্ঠ ডটকম, জেনেভা, সুইজারল্যান্ড : যথাযথ মর্যাদার মধ্য দিয়ে ও আনন্দমুখর পরিবেশে জেনেভাস্থ বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে মহান বিজয় দিবস উদযাপিত হয়েছে।

দিবসটি উপলক্ষ্যে দূতাবাস প্রাঙ্গণে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভার শুরুতেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কর্তৃক প্রদত্ত বাণী পাঠ করেন কর্মকর্তারা। এসময় মহান মুক্তিযুদ্ধে নারীর অবদান বিষয়ক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘আমরা তোমাদের ভুলব না’ প্রদর্শন এবং দূতাবাসের কর্মকর্তাগণ বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে রচিত কবিতা ও প্রবন্ধ পাঠ করে শোনান। দিবসটি উপলক্ষ্যে জেনেভাস্থ বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের প্রস্তাবনায় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ‘বিজয় ফুল উৎসব’-এরও আয়োজন করা হয়।

জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি এবং সুইজারল্যান্ডে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোঃ শামীম আহসান তাঁর বক্তব্যে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পথ পরিক্রমায় সংঘটিত বিভিন্ন রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অসম সাহসিকতা এবং বঙ্গবন্ধুর বিচক্ষণ নেতৃত্বের কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। বাঙালির মুক্তি বাসনাকে সঠিক ও অর্থবহ খাতে প্রবাহিত করে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে প্রবাসী মুজিবনগর সরকারের অনবদ্য ভূমিকার বিষয়টিও তিনি তাঁর বক্তব্যে তুলে ধরেন। রাষ্ট্রদূত বলেন, “সার্বিক মুক্তির মধ্য দিয়ে একটি উদার, উন্নত ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তোলা ছিল মুক্তিযুদ্ধের মূল লক্ষ্য। জাতির জনকের স্বপ্নের সোপান বেয়ে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে সাহসী এবং অগ্রগতিশীল উন্নয়ন কৌশল গ্রহণ করার মধ্য দিয়েই আমরা সেই লক্ষ্য অর্জনে সমনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।” তিনি স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উন্নীত হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে বঙ্গবন্ধুর ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ গড়ে তুলতে সকলকে তাঁদের প্রয়াস অব্যাহত রাখতে বলেন।

পরিশেষে, বাঙালির স্বাধীনতা ও স্বাধিকার আন্দোলনের প্রতিটি পর্যায়ে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালনকারী সকল শহিদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের কর্মকর্তাবৃন্দ, কর্মচারীগণ এবং প্রবাসী বাংলাদেশিসহ সুইজারল্যান্ডে বসবাসরত শিশু-কিশোররা এই অনুষ্ঠানে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *