অভিবাসী শ্রমিকদের “রেমিটেন্স যোদ্ধা” ঘোষণার দাবী

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্তমানকন্ঠ ডটকম, সৌদি আরব : বৈদোশিক মুদ্রা প্রেরণকারি অভিবাসী শ্রমিকদের “রেমিটেন্স যোদ্ধা” ঘোষণার দাবী জানিয়েছে নারায়নগঞ্জ প্রবাসী কল্যাণ আর্ন্তজাতিক ফোরামের নেতৃবৃন্দ । ২৬ ডিসেম্বর বুধবার রাতে রিয়াদে স্হানীয় একটি হোটেলে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটির রিয়াদ শাখা কমিটি গঠন ও আলোচনা সভায় বক্তারা এই দাবী জানান । সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এইচ এম নুরুল হক নুরুর সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় বক্তব্য রাখেন, আমিন আকরাম, কাদির আব্বাস, দীন ইসলাম, মাসুদ রানা রবিউল সহ আরো অনেকে ।

বক্তারা বলেন, প্রবাসীদের কষ্টার্জিত রেমিটেন্সের কারণেই বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিশ্ব মন্দার প্রভাব তেমন একটা অনুভব হয়নি। অর্থনৈতিক গতিশীলতার ক্ষেত্রে রেমিটেন্স গুরুত্বপূর্ণ । তাই অভিবাসীদের “রেমিটেন্স যোদ্ধা” ঘোষণা সময়ের দাবী।

উল্লেখ্য, রেমিটেন্স বাংলাদেশের মোট অভ্যন্তরীণ আয় বা জিডিপির ৩০ থেকে ৩৫ ভাগ। জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। ‘মাইগ্রেশন অ্যান্ড রেমিটেন্স: রিসেন্ট ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড আউটলুক’-২০১৮ শীর্ষক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, রেমিটেন্স অর্জনকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ এখন সারা বিশ্বে নবম অবস্থানে রয়েছে। ২০১৭ সালে বাংলাদেশে এক হাজার ৩৫০ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, চলতি ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে প্রবাসীরা ৫৬২.৬২ বিলিয়ন ডলার রেমিটেন্স পাঠিয়েছে। এছাড়া ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে ১০১০.৯৯ বিলিয়ন ডলার, ২০১৫-১৬ ১১৬৮.৫৭ বিলিয়ন, ২০১৪-১৫ ১১৮৯.৯৩ বিলিয়ন, ২০১৩-১৪ ১১০৫.৮৪ বিলিয়ন, ২০১২-১৩ ১১৫৬.৪৭ বিলিয়ন, ২০১১-১২ ১০১৮.৮২ বিলিয়ন, ২০১০-১১ ৮২৯.৯১ বিলিয়ন, ২০০৯-১০ ৭৬০.১১ বিলিয়ন এবং ২০০৮-২০০৯ অর্থবছরে ৬৬৬.৭৭ বিলিয়ন ডলার রেমিটেন্স এসেছে।এছাড়া ২০০৭-০৮ অর্থবছরে ৫৪২.৯৬ বিলিয়ন, ২০০৬-২০০৭ ৪১৩.০১ বিলিয়ন, ২০০৫-০৬ ৩২২.৭৬ বিলিয়ন, ২০০৪-০৫ ২৩৬.৪৮ বিলিয়ন, ২০০৩-০৪ ১৯৮.৭০ বিলিয়ন, ২০০২-০৩ ১৭৭.২৯ বিলিয়ন, ২০০১-০২ ১৪৩.৭৭ বিলিয়ন, ২০০০-০১ ১০১.৭০ বিলিয়ন, ১৯৯৯-২০০০ ৯৮.০৭ বিলিয়ন, ১৯৯৮-৯৯ ৮১.৯৮ বিলিয়ন এবং ১৯৯৭-৯৮ অর্থবছরে ৬৯.৩৫ বিলিয়ন ডলার রেমিটেন্স পাঠিয়েছে প্রবাসীরা। দেশ উন্নয়নের এই মহাশক্তি রেমিটেন্স যেমন দেশের জন্য প্রয়োজন ঠিক তেমনি রেমিটেন্সযোদ্ধাদের বাঁচানোও সরকারের দায়িত্ব।

নানা কারণে দিনদিন প্রবাসীদের মৃতের সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিরাপদ কর্ম পরিবেশ, আর্থিক ঋণ, খাদ্যাভ্যাসসহ মানসিক চাপই বেশিরভাগ প্রবাসীর মৃত্যুর কারণ। দেশে প্রতিদিন গড়ে আট থেকে ১০ জন প্রবাসীর মৃত্যুদেহ দেশে আসে। ২০০৫ সালে এক হাজার ২৪৮ জনের মৃতদেহ দেশে এলেও ২০০৯ সালে এ সংখ্য দ্বিগুণ হয়। ২০১৫ সালেও বাংলাদেশে এসেছে মোট তিন হাজার ৩০৭ জন প্রবাসীর লাশ। আরেকটি জরিপে দেখা গেছে, একই বছরের ডিসেম্বরে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসে ২২০ জন প্রবাসীর লাশ। তাদের মধ্যে ১৮২ জনের মৃত্যুকেই খুব স্বাভাবিক বলা যায় না। অধিকাংশেরই মৃত্যুর কারণ মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ, হৃদরোগ, কর্মক্ষেত্র বা সড়ক দুর্ঘটনা কিংবা ক্যানসারের মতো জটিল কোনো রোগ।

প্রবাসে একা থাকা, নিজের ও পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা, খারাপ পরিবেশে কাজ করা ইত্যাদি কারণে হৃদরোগ বা মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ বয়স ৩৫ হওয়ার আগেই অনেকের জীবন অতলে হারিয়ে গেছে। বর্তমানে মৃতের সংখ্যা তিনগুণে দাঁড়িয়েছে। গত একযুগে দেশে প্রবাসী কর্মীর মরদেহ দেশে এসেছে ৩১ হাজার ৪৬৭ জন। বিশেষজ্ঞদের মতে প্রকৃত মৃতের সংখ্যা আরও বেশি।

আলোচনা সভা শেষে মোশারফ হোসেন মিন্টুকে আহবায়ক ও গোলাম মোরশেদকে সদস্য সচিব, মাসুদ প্রধান ও দীন ইসলামকে যুগ্ম সচিব করে ১৫ (পনের) সদস্য বিশিষ্ট রিয়াদ শাখা কমিটি গঠন করা হয় ।

আহবায়ক কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, ফারুক আহমেদ (মাসুদ রানা রবিউল), মোবারক ঈদ্দীস, খোকন, মোক্তার হোসেন, হোসেন মতুয়া, মোস্তাক আহমেদ, ফরহাদ মুনাই, আব্দুল কাইউম, আবুল কালাম, জামান মিয়া ও শহিদুল হক ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *